মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রা.) ইসলামী ইতিহাসের একটি বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রথম উমাইয়া খলিফা (৬৬১-৬৮০ খ্রি.) এবং কারো কারো মতে উমাইয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। সুন্নী দৃষ্টিভঙ্গিতে মুয়াবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রা.)-কে প্রধানত একজন সম্মানিত সাহাবী (নবী মুহাম্মদ সা.-এর সঙ্গী) হিসেবে দেখা হয়, যিনি ইসলামী সাম্রাজ্যের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং ফিতনার (গৃহযুদ্ধের) সময় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য পুনরুদ্ধার করেছেন।
সূচীপত্র
Toggleতাঁকে ক্ষমতা লোভী হিসেবে দেখা হয় না, বরং তাঁর আলী ইবন আবু তালিব (রা.)-এর সাথে সংঘর্ষকে রাজনৈতিক বিবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়, যা ধর্মীয় নয়। সুন্নী আলিমরা তাঁর সমালোচনা করলেও, তাঁকে সাহাবী হিসেবে সম্মান করেন এবং “রাদিয়াল্লাহু আনহু” বলে উল্লেখ করেন।
সাহাবী হিসেবে মুয়াবিয়া (রা)
সুন্নীমতাদর্শী মুসলিমরা মুয়াবিয়া (রা)-কে নবী (সা.)-এর সাহাবী হিসেবে মর্যাদা দেন, কারণ তিনি মক্কা বিজয়ের সময় (৮ হিজরী, ৬৩০ খ্রি.) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবীর সাথে সময় কাটান। তিনি নবীর কাতিব (লেখক) ছিলেন এবং কুরআনের ওয়াহি লেখায় অংশ নেন বলে উল্লেখ আছে।
উদাহরণস্বরূপ, ইবন তাইমিয়াহ (রহ.) মজমু’আল ফাতাওয়া (৪/২৮৮) -এ বলেন যে, মুয়াবিয়া (রা) নবীর বিশ্বস্ত সাহাবী ছিলেন। এছাড়া, ইবন কাথির (রহ.) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-এ উল্লেখ করেন যে, ৪১ হিজরীতে সমস্ত মুসলিম তাঁকে খলিফা হিসেবে বায়াত দেন এবং তাঁর শাসনকালে মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। এটি তাঁর ক্ষমতা দখলকে লোভী নয়, বরং ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখায়।
সুন্নী আলিমরা, যেমন – ইবন তাইমিয়াহ মিনহাজ আস-সুন্নাহ-এ মুয়াবিয়া (রা.) কে মুসলিমদের মধ্যে সেরা রাজা বলে বর্ণনা করেন, যাঁর শাসনকালে লোকেরা সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিলেন। এটি তাঁর শাসনকে ইতিবাচকভাবে দেখায়, যেখানে ক্ষমতা লোভের পরিবর্তে প্রশাসনিক দক্ষতা এবং ঐক্য রক্ষার উপর জোর দেওয়া হয়।
আলীর সাথে সংঘর্ষ: রাজনৈতিক বিবাদ, ধর্মীয় নয়
সুন্নী মতাদর্শে সিফফিনের যুদ্ধ (৬৫৭ খ্রি.) এবং আলীর সাথে সংঘর্ষকে রাজনৈতিক বলে দেখা হয়, যা উসমান (রা.)-এর হত্যার প্রতিশোধ এবং ক্ষমতা স্থিতিশীলতার জন্য ঘটে। কোনো সুন্নী আলিম এটিকে মুয়াবিয়ার ক্ষমতা লোভের প্রমাণ হিসেবে দেখেন না; বরং উভয় পক্ষকেই সাহাবী হিসেবে সম্মান করেন।
তবে সিফফিনের যুদ্ধ নিয়ে অনেক সুন্নি আলেমও বলেন:
“আলী (রা.) ছিলেন হকের উপর, মুয়াবিয়া (রা.) ভুলের উপর ছিলেন, কিন্তু তিনি ইজতিহাদী ভুল করেছিলেন, ইচ্ছাকৃত বিদ্রোহী বা কাফের ছিলেন না।”
শেখ আলী গোমা (পূর্ব মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি) বলেন যে, সত্য বা হক মূলত আলী (রা)-এর সাথেই ছিল, কিন্তু মুয়াবিয়া(রা)-কে সাহাবী হিসেবে সম্মান করতে হবে এবং তাঁর কর্মকে পাপ বলে দেখলেও ব্যক্তিকে অসম্মান করা যাবে না। তিনি সহীহ মুসলিম এবং ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বালের মুসনাদ-এর রেফারেন্স দেন যে, আলী (রা) সত্যের উপরে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন । তবুও, এটি মুয়াবিয়া (রা)-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে লোভী নয়, বরং ভুলপ্রবণ বলে ব্যাখ্যা করেন।
ইবন কাথির, তার ”তারিখে” উল্লেখ করেন যে, মুয়াবিয়া (রা)-এর দ্বারা আলী (রা)-কে গালি দেওয়ার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, যা তাঁর বিরুদ্ধে লোভী বা বিদ্বেষপরায়ণ অভিযোগকে দুর্বল করে।
খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং বংশানুক্রমিকতা
মুয়াবিয়া (রা) উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন এবং ছেলে ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী করেন (৬৭৫-৬৭৬ খ্রি.), যা সুন্নী মুসলিমদের মধ্যে কিছু সমালোচনার কারণ, কারণ এটি শুরা (পরামর্শ) ব্যবস্থার লঙ্ঘন। তবে, ট্র্যাডিশনাল সুন্নী আলিমরা উমাইয়া রাজতন্ত্রের বিরোধিতা করলেও, মুয়াবিয়া (রা)-কে ব্যক্তিগতভাবে লোভী বলে অভিযুক্ত করেন না। বরং, তাঁর শাসনকালে সাম্রাজ্য বিস্তার (বাইজেন্টাইনের বিরুদ্ধে অভিযান, উত্তর আফ্রিকা বিজয়) এবং প্রশাসনিক উন্নয়নকে (ডাক ব্যবস্থা, নৌবাহিনী) ইতিবাচকভাবে দেখা হয়। ইবন তাইমিয়াহ (রহ.) বলেন যে, মুসলিমদের মধ্যে কোনো রাজাই মুয়াবিয়া (রা)-এর চেয়ে ভালো ছিলেন না।
কিছু সুন্নী আলিম যেমন – ইবন হাজার আল-হাইথামী মুয়াবিয়া (রা)-এর প্রতিরক্ষায় বই লিখেছেন, যা সুন্নী বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে, অনেক সুন্নী মুসলিমরা (যেমন তাসাউফ-ঝোঁকযুক্ত) উমাইয়া রাজবংশকে নেতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
ঐতিহাসিক প্রমাণের সমালোচনা
কিছু অভিযোগ যেমন- হুজর ইবন আদির হত্যা বা আলীর বিরুদ্ধে প্রচারণা সুন্নী উৎসে (যেমন তারিখ-ই তাবারী) উল্লেখ আছে, কিন্তু সুন্নীরা এগুলোকে ফিতনার ফল বলে দেখেন, যেখানে উভয় পক্ষের ভুল ছিল। শায়খ হাসান আল-বাসরী মুয়াবিয়ার চারটি পাপ উল্লেখ করেন (নিজেকে খলিফা বানানো, ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী, ইত্যাদি), কিন্তু এটি সুন্নীদের মধ্যে মূলধারা নয়; বরং তাঁকে সাহাবী হিসেবে ক্ষমা করা হয়।
উপসংহারে, সুন্নী দৃষ্টিভঙ্গিতে মুয়াবিয়া (রা) ক্ষমতা লোভী নন, বরং একজন সফল শাসক এবং সাহাবী যিনি ইসলামের সেবা করেছেন। তাঁর কর্মে কিছু ভুল থাকলেও, সাহাবীর মর্যাদা তাঁকে রক্ষা করে। এটি ইবন তাইমিয়াহ (রহ), ইবন কাথির (রহ) এবং অন্যান্য সুন্নী আলিমদের লেখায় প্রতিফলিত।
চার মাযহাবের ইমামদের অবস্থান
চার ইমামের কেউই মুয়াবিয়া (রা.)-কে গালি দেওয়া, অভিশাপ দেওয়া বা তাঁর সমালোচনা করার অনুমতি দেননি। বরং তাঁরা সকলেই সাহাবীদের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার নীতিতে অটল ছিলেন।
১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর অবস্থান
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তাঁর ‘আল-ফিকহুল আকবার’ কিতাবে সাহাবীদের ব্যাপারে মূলনীতি স্পষ্ট করেছেন।
- দলিল: তিনি বলেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো সাহাবীকে কল্যাণের আলোচনা ছাড়া স্মরণ করি না।”
- তিনি আরও শিখিয়েছেন যে, সাহাবীদের মধ্যে যে মতভেদ বা যুদ্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে চুপ থাকা এবং তাঁদের নিয়তকে আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
- রেফারেন্স: আল-ফিকহুল আকবার, ইমাম আবু হানিফা (আলী আল-ক্বারী কর্তৃক ব্যাখ্যাসহ); অধ্যায়: ‘সাহাবীদের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ।
২. ইমাম মালেক (রহ.)-এর অবস্থান
ইমাম মালেক (রহ.)-এর এই অবস্থানটি মালিকী মাযহাবের বিখ্যাত কিতাব ‘আশ-শিফা’ এবং ইমাম ইবনে কাছীরের তাফসিরে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এসেছে।
- দলিল: ইমাম ইবনে কাছীর (রহ.) তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালেক (রহ.) সেইসব ব্যক্তিদের কাফের মনে করতেন যারা সাহাবীদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে (সূরা ফাতহ-এর ২৯ নম্বর আয়াতের আলোকে)।
- মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে তিনি বলতেন, তারা ছিলেন সত্যের অন্বেষী। তাই তাঁদের গালি দেওয়া বা তুচ্ছ করা জঘন্য অপরাধ। ইমাম মালেক বলতেন, যে ব্যক্তি সাহাবীদের গালি দেয় বা ছোট করে দেখে, মুসলিমদের গণিমতের মালে (সম্পদ) তার কোনো অধিকার নেই।
- রেফারেন্স: তাফসিরে ইবনে কাছীর, সূরা আল-ফাতহ-এর ২৯ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা; আশ-শিফা বি-তা’রিফি হুকুকিল মুস্তাফা, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১০৫ (কাজী আয়াজ)।
৩. ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর অবস্থান
ইমাম শাফিঈ (রহ.) সাহাবীদের মধ্যকার যুদ্ধকে ইজতিহাদগত ভুল হিসেবে দেখতেন, যার জন্য তাঁরা আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রাপ্ত। ইমাম শাফিঈর সেই বিখ্যাত বক্তব্যটি (হাত পবিত্র রাখা নিয়ে) অনেক ইতিহাস ও আকিদার কিতাবে উদ্ধৃত হয়েছে।
- দলিল: তাঁর বিখ্যাত উক্তি হলো: “ঐ রক্ত থেকে আল্লাহ আমাদের হাত পবিত্র রেখেছেন, সুতরাং আমরা যেন আমাদের জিহ্বাকে ঐ রক্ত (সাহাবীদের সমালোচনা) থেকে পবিত্র রাখি।” (মানাক্বিবুশ শাফিঈ)।
- রেফারেন্স: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবনে কাছীর), ১০ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৬৮ (মুয়াবিয়া (রা.)-এর জীবনী অংশ);মানাক্বিবুশ শাফিঈ, ইমাম বায়হাকী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৪৯।
৪. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর অবস্থান
চার ইমামের মধ্যে তিনি এই বিষয়ে সবচেয়ে আপসহীন ছিলেন। তিনি সাহাবীদের সমালোচনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর ছিলেন। তাঁর আকিদার মূল কিতাবে এটি বর্ণিত আছে।
- দলিল: তাঁর কিতাব ‘আস-সুন্নাহ’-তে তিনি লিখেছেন: “তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা অনুযায়ী, ইমাম আহমাদ বলতেন: “যদি দেখো কেউ মুয়াবিয়া (রা.)-কে গালি দিচ্ছে, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে তুমি অপবাদ (সন্দেহ) দাও।” (আস-সুন্নাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৩৪)।”
- তাঁকে মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “তিনি রাসূল (সা.)-এর লেখক এবং সাহাবী ছিলেন।”
- রেফারেন্স: উসূলে সুন্নাহ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (তাহক্বীক: ড. ফাওযানি); পৃষ্ঠা: ৭৭-৭৯ (মুয়াবিয়া (রা.) ও সাহাবীদের আলোচনা অনুচ্ছেদ)।
সারকথা: চার ইমাম এবং সালাফে সালেহীনদের মতে, সাহাবীদের মধ্যকার বিবাদগুলো ছিল তাদের ব্যক্তিগত ইজতিহাদ (গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত)। এতে কেউ ভুল করলে একটি সওয়াব আর সঠিক হলে দশটি সওয়াব পাবেন। তাই আমাদের কাজ হলো তাঁদের সবার জন্য ‘রাদিয়াল্লাহু আনহু’ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলা।
কেন মুয়াবিয়া (রা.)-এর সমালোচনা করা যাবে না? (শরয়ী দলিল)
১. কুরআনের ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছেন, “আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।” (সূরা তাওবাহ: ১০০)। এখানে কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীকে বাদ দেওয়া হয়নি।
২. রাসূল (সা.)-এর হাদিস: বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন: “তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও দান করো, তবে তাঁদের এক মুদ (অল্প পরিমাণ) দানের সমানও হবে না।”
৩. মুয়াবিয়া (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা: তিনি ছিলেন ওহী লেখক (কাতিবে ওহী)। নবীজী (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে হেদায়েতকারী, হেদায়েতপ্রাপ্ত বানান এবং তার মাধ্যমে মানুষকে হেদায়েত দান করুন।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৪২)।
প্রধান মুহাদ্দিসদের (হাদীস বিশারদদের) মতামত
সকল বড় মুহাদ্দিস (ইমাম বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমী প্রমুখ) মুয়াবিয়া (রা.)-কে সাহাবী হিসেবে গণ্য করেছেন এবং তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন।
১. ইমাম বুখারী (রহ.)-এর অবস্থান
ইমাম বুখারী তাঁর ‘সহীহ বুখারী’-তে মুয়াবিয়া (রা.)-এর ফজিলত ও মর্যাদা রক্ষায় স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন।
- রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, কিতাব: ‘সাহাবীদের মর্যাদা’ (فضائل الصحابة), পরিচ্ছেদ: ‘মুয়াবিয়া (রা.)-এর আলোচনা’ (ذكر معاوية رضي الله عنه)।
- দলিল: এই অধ্যায়ে তিনি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর একটি উক্তি এনেছেন যেখানে তিনি মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে বলেন— “নিশ্চয়ই তিনি একজন ফকীহ (বিচক্ষণ দ্বীনি জ্ঞানের অধিকারী)।” (হাদিস নম্বর: ৩৭৬৫)।
২. ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর অবস্থান
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুয়াবিয়া (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস গ্রহণের পাশাপাশি তাঁর মর্যাদাও উল্লেখ করেছেন।
- রেফারেন্স: সহীহ মুসলিম, কিতাব: ‘সচ্চরিত্রতা, আত্মীয়তা ও আদব’ (البر والصلة والآداب)।
- দলিল: তিনি নবীজী (সা.)-এর সেই দোয়াটি উল্লেখ করেছেন— “হে আল্লাহ! আমি যাকে গালি দিয়েছি বা অভিশাপ দিয়েছি (মানুষ হিসেবে রাগের বশবর্তী হয়ে), আপনি তা তার জন্য পবিত্রতা ও রহমত বানিয়ে দিন।” ইমাম মুসলিম এই হাদিসটি মুয়াবিয়া (রা.)-এর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করতেন (হাদিস নং: ২৬০৪)।
৩. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)
হাদিস বিশারদদের সম্রাট ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর অমর গ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’-তে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে মুয়াবিয়া (রা.)-এর পক্ষ নিয়েছেন।
- রেফারেন্স: ফাতহুল বারী, ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১০৪ (বৈরুত সংস্করণ)।
- বক্তব্য: তিনি বলেছেন, মুয়াবিয়া (রা.)-এর অনেকগুলো ফজিলত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো তিনি ওহী লেখক ছিলেন এবং সাহাবী ছিলেন।
৪. ইমাম নববী (রহ.)-এর অবস্থান
সহীহ মুসলিমের শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (রহ.) সাহাবীদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে মুহাদ্দিসদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
- রেফারেন্স: শরহে মুসলিম (ইমাম নববী কৃত), ১৬শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৩।
- বক্তব্য: তিনি লিখেছেন— “জেনে রেখো, আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো সকল সাহাবীর প্রতি সুধারণা রাখা এবং তাঁদের বিবাদ থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখা।” তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-কে একজন ‘মুজতাহিদ’ (গবেষক) হিসেবে গণ্য করেছেন।
৫. ইমাম নাসাঈ (রহ.)-এর কঠোর অবস্থান
ইমাম নাসাঈর জীবনের শেষ সময়ের একটি ঘটনা মুয়াবিয়া (রা.)-এর প্রতি তাঁর সম্মানের দলিল।
- রেফারেন্স: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১১তম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৪।
- ঘটনা: সিরিয়ার দামেস্কে তাঁকে যখন মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে প্রশ্ন করে উত্যক্ত করা হচ্ছিল, তিনি বলেছিলেন— “ইসলাম একটি ঘরের মতো যার দরজা হলো সাহাবীগণ। যে দরজায় আঘাত করবে সে ঘরে ঢুকতে চায় (অর্থাৎ ইসলাম ধ্বংস করতে চায়)।”
মুয়াবিয়া (রা.)-এর মর্যাদা নিয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র:
| কিতাবের নাম | লেখক | বিষয়বস্তু |
|---|---|---|
| আল-আওয়াসিম মিনাল ক্বাওয়াসিম | ইমাম ইবনুল আরাবী | সাহাবীদের পবিত্রতা ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর পক্ষে বলিষ্ঠ জবাব। |
| মাজমুউল ফাতাওয়া | ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ | ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৭৮ (মুয়াবিয়া (রা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও কাতিবে ওহী হওয়ার দলিল)। |
| সুনানে তিরমিজি | ইমাম তিরমিজি | হাদিস নং ৩৮৪২ (মুয়াবিয়া (রা.)-এর জন্য নবীজীর দোয়া)। |
সারকথা: মুহাদ্দিসগণের নিকট মুয়াবিয়া (রা.) একজন ‘আদিল’ বা ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী। যদি তাঁর সততা বা সাহাবিয়াতের ওপর সামান্যতম প্রশ্ন থাকত, তবে উম্মতের নিকট এই বিশুদ্ধ কিতাবগুলোতে তাঁর স্থান হতো না।
শিয়া দৃষ্টিকোণ
শিয়া মতে মুয়াবিয়া পুরোপুরি ক্ষমতালোভী, ধূর্ত এবং ইসলামের আদর্শের বিরোধী ছিলেন। তাদের মতে, ইসলামের নেতৃত্ব (ইমামত) কেবল নবী পরিবার বা আহলে বায়তের (বিশেষ করে আলী রা. ও তাঁর বংশধরদের) অধিকার। তাদের অভিযোগগুলো হলো:
- আহলে বায়তের প্রতি আচরণ: তাদের মতে, মুয়াবিয়া (রা.) সরকারিভাবে আলী (রা.)-কে মন্দ বলার প্রথা চালু করেছিলেন (যদিও সুন্নী ঐতিহাসিকদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক ও ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে)।
- বিদ্রোহ: তিনি বৈধ খলিফা আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে সিফফিনের যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন।
- চুক্তি ভঙ্গ: শিয়াদের দাবি, হাসান (রা.)-এর সাথে সন্ধির শর্ত তিনি ভঙ্গ করেছিলেন (যেমন- নিজের পরে কাউকে উত্তরাধিকারী না করা)।
- ইয়াজিদের মনোনয়ন: তাঁর পুত্র ইয়াজিদকে খলিফা মনোনীত করা, যা শেষ পর্যন্ত কারবালার বিয়োগান্তক ঘটনার পথ প্রশস্ত করে।
এজন্য শিয়া সাহিত্যে তাকে প্রায়শই “দাজ্জালের মতো ধূর্ত” বা “ইসলামের প্রথম রাজা” (খলিফা নয়, বাদশাহ) বলা হয়।
সুন্নী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তাদের এই অবস্থানের যুক্তিখন্ডন
সুন্নী আকিদা অনুযায়ী, সাহাবীদের গালি দেওয়া বা ঘৃণা করা বিভ্রান্তি এবং গুনাহের কাজ। সুন্নী দৃষ্টিভঙ্গি হলো:
- সাহাবিয়াতের ঢাল: মুয়াবিয়া (রা.) একজন সাহাবী ছিলেন এবং ওহী লেখক ছিলেন। নবীজী (সা.)-এর সাহচর্য যাঁর নসিব হয়েছে, তাঁর বিচার করার অধিকার পরবর্তী প্রজন্মের নেই। যদি মুয়াবিয়া (রা.) এতোই খারাপ হতেন (নাউযুবিল্লাহ), তবে নবীজী (সা.) কেন তাঁকে ওহী লেখার মতো স্পর্শকাতর কাজে নিয়োজিত করেছিলেন? নবীজী কি জানতেন না তিনি কেমন?
- হাসান (রা.)-এর সন্ধি: হাসান (রা.) নিজে মুয়াবিয়া (রা.)-এর হাতে বাইয়াত বা আনুগত্যের শপথ করেছিলেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। যদি তিনি অভিশপ্ত হতেন, তবে জান্নাতের যুবকদের সর্দার হাসান (রা.) কেন তাঁর হাতে উম্মতের দায়িত্ব তুলে দিলেন? (রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদিস নং ২৭০৪)।
- ইজতিহাদি ভুল: আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার যুদ্ধ ছিল একটি ‘ইজতিহাদি’ ভুল (ভুল সিদ্ধান্ত)। সুন্নীদের মতে, আলী (রা.) হকের ওপর ছিলেন, আর মুয়াবিয়া (রা.) ভুল করেছিলেন, কিন্তু সেই ভুলটি ছিল বিচার বিভাগীয় বা রাজনৈতিক, যা তাঁকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না।
- হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা: যদি মুয়াবিয়া (রা.)-কে অস্বীকার করা হয়, তবে তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত শত শত হাদিসকেও অস্বীকার করতে হয়, যা সরাসরি ইসলামের ক্ষতি করে।
- কুরআনের ঘোষণা: আল্লাহ তাআলা সকল সাহাবীর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন (সূরা ফাতহ, আয়াত ১৮; সূরা তাওবাহ, আয়াত ১০০)। আল্লাহ যদি তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট থাকেন, তবে কোনো মানুষের অধিকার নেই তাঁদের সমালোচনা করার।
আহলে সুন্নাতের মূলনীতি হলো— “তিলকা উম্মাতুন ক্বাদ খালাত” (সেটি একটি জাতি ছিল যারা গত হয়েছে)।
“আমরা আলী (রা.)-কে ভালোবাসি এবং খলিফা হিসেবে তাঁকে মুয়াবিয়া (রা.)-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেই। কিন্তু তাই বলে মুয়াবিয়া (রা.)-কে গালি দেই না। কারণ নবীজী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না’। তাঁদের মধ্যে কী হয়েছিল তা আল্লাহ ফয়সালা করবেন। তাঁদের বিবাদ নিয়ে পড়ে থেকে নিজের আমল নষ্ট করা অনুচিত।
আধুনিক ঐতিহাসিকদের মূল্যায়নের ভিত্তি
আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, মুয়াবিয়া (রা.) ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে একটি আদর্শবাদী কাঠামো থেকে একটি কার্যকরী রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছিলেন।
১. রাজনৈতিক প্রতিভা ও বাস্তববাদ
ঐতিহাসিকরা তাঁকে “হিল্ম” (ধৈর্য ও সহনশীলতা) এর কৌশলী ব্যবহারের জন্য কৃতিত্ব দেন। তিনি বলপ্রয়োগের চেয়ে কূটনীতি ও অর্থের মাধ্যমে শত্রু দমনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- রেফারেন্স: Hugh Kennedy তাঁর The Prophet and the Age of the Caliphates বইতে উল্লেখ করেছেন যে, মুয়াবিয়া সিরিয়ার গোত্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে এমন এক স্থিতিশীলতা এনেছিলেন যা তাঁর পূর্বসূরিরা পারেননি।
২. ক্ষমতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম স্থিতিশীলতা
আধুনিক ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর ক্ষমতালাভের আকাঙ্ক্ষা অনস্বীকার্য। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা কেবল ব্যক্তিগত ছিল না, বরং তা ছিল একটি ভেঙে পড়া সাম্রাজ্যকে পুনর্গঠনের হাতিয়ার।
- রেফারেন্স: Stephen Humphreys তাঁর Mu’awiya ibn Abi Sufyan: From Arabia to Empire গ্রন্থে দেখিয়েছেন কীভাবে মুয়াবিয়া বাইজান্টাইন প্রশাসনিক কাঠামো গ্রহণ করে ইসলামি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করেন। তাঁর মতে, মুয়াবিয়া ছিলেন মূলত একজন “State-builder”।
৩. উত্তরাধিকার ও উমাইয়া শাসনের ভিত্তি
পুত্র ইয়াজিদকে মনোনীত করাকে ঐতিহাসিকরা ধর্মীয় বিচ্যুতি হিসেবে দেখলেও রাজনৈতিকভাবে একে “স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা” হিসেবে দেখেন, যাতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি না হয়।
- রেফারেন্স: Hichem Djaït তাঁর La Grande Discorde (The Great Discord) গ্রন্থে আলী (রা.) এবং মুয়াবিয়া (রা.)-এর দ্বন্দ্বকে কেবল আদর্শিক নয়, বরং সিরিয়া বনাম ইরাকের ভূ-রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন।
| বিষয় | ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা |
| চরিত্র | তিনি একজন ‘মালিক’ (রাজা) ছিলেন, যিনি সাহাবীর পরিচয়ের চেয়ে শাসকের পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়েছেন। |
| সাফল্য | আরবের গৃহযুদ্ধ (ফিতনা) থামিয়ে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী এবং কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা। |
| বিতর্ক | প্রশাসনিক প্রয়োজনে ধর্মীয় আদর্শকে কিছুটা শিথিল করা (যেমন: বাইজান্টাইন রীতিনীতি গ্রহণ)। |
আধুনিক ইতিহাসচর্চার দৃষ্টিতে…
- ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে: তিনি বিতর্কিত, কারণ তিনি খিলাফতের শুরা (পরামর্শ) ভিত্তিক ব্যবস্থা ভেঙে রাজতন্ত্র শুরু করেছিলেন।
- রাজনৈতিক দৃষ্টিতে: তিনি একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, কারণ তাঁর হাত ধরেই ইসলামি সাম্রাজ্য একটি বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিক M.A. Shaban তাঁর Islamic History: A New Interpretation গ্রন্থে মুয়াবিয়া (রা) কে এমন একজন নেতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন যিনি জানতেন কখন তলোয়ার ব্যবহার করতে হয় আর কখন স্বর্ণের থলি।
সারসংক্ষেপ:
আধুনিক ইতিহাসবিদগণ তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। বিশেষত, পশ্চিমা ঐতিহাসিকগণ, তাকে ধর্মীয় নেতা থেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তবে, সুন্নী মতাদর্শে বিষয়টি এভাবে বিবেচনা করা হয় না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিভাষায়, মুয়াবিয়া (রা) একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন, যিনি ফিতনা দমন করেছিলেন এবং মুসলিম সাম্রাজ্যকে বিস্তার করেছিলেন। তবে, তার ইয়াজিদেকে ক্ষমতায় বসানোসহ বেশ কিছু ইজতিহাদি ভুল করেছিলেন, যার জন্য প্রায়শই তিনি অনেকের সমালোচনার স্বীকার হন। তবে, তার ভুলগুলো ফিতনার ফল ছিল এবং তার জন্য আল্লাহর ফায়সালাই বড় । এই প্রসঙ্গে চুপ থাকাটাই শ্রেয়।
আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর সর্বসম্মত অবস্থান (সারসংক্ষেপ)
- মুয়াবিয়া (রা.) সাহাবী (রাসূল (সা.)-কে দেখেছেন, ঈমান এনেছেন)।
- তিনি কাতিবে ওহি (অহি লেখক) ছিলেন।
- রাসূল (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করেছেন (যেমন: “হে আল্লাহ! তাকে হিদায়াত দান করুন, হিদায়াতের মাধ্যম বানান”)।
- সিফফিনের যুদ্ধে তিনি ইজতিহাদী ভুল করেছিলেন (অর্থাৎ ভুল করলেও ইচ্ছাকৃত বিদ্রোহী বা কাফির নন)।
- হযরত আলী (রা.) ছিলেন হকের উপর — এটাই আহলে সুন্নাহর মত।
- কিন্তু এ কারণে মুয়াবিয়া (রা.)-কে গালি দেওয়া বা অভিশাপ দেওয়া জায়েজ নয়।
- সাহাবীদের মধ্যে যে ফিতনা হয়েছে, তা নিয়ে চুপ থাকা উত্তম (ইমাম মালেক, আহমাদ প্রমুখের মত)।
সর্বশেষ কথা (আহলে সুন্নাহর আকাবিরদের সারকথা): “আমরা আলী (রা.)-কে ভালোবাসি, মুয়াবিয়া (রা.)-কেও ভালোবাসি। দুজনকেই সম্মান করি। ফিতনার বিষয়ে চুপ থাকি। আল্লাহ সকল সাহাবীকে ক্ষমা করুন।” (ইবনে তাইমিয়া, ইবনে কাসীর, নববী, ইবনে হাজার প্রমুখের সারসংক্ষেপ)
আল্লাহ আমাদের সকলকে সাহাবীদের প্রতি সঠিক আকীদা দান করুন এবং উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করুন। আমীন।
উপসংহার
মুয়াবিয়া (রা) একজন জলিলুল কদর সাহাবী। তার প্রতি আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) খুশি ছিলেন। তার রাজত্বকালে ইসলামের বিকাশ ঘটে এবং ফিতনা অনেক বন্ধ হয় যা ওসমান হত্যা এবং পরবর্তীতে আলী (রা) এর হত্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উনার ইজতিহাদি ভুলগুলোর মধ্যে বড় ভুল ছিল ইয়াজিদকে ক্ষমতায় বসানো। উনি উমাইয়া গোত্র দ্বারা ফিতনার আশংকা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেন যা কিছু প্রসিদ্ধ সাহাবীদের সাথে পরামর্শক্রমে করেন।
আমরা মুসলিম হিসেবে তাকে সম্মান করি যেহেতু তিনি কাতেবে ওহী ছিলেন। তার ভুলগুলোর জন্য তার ফায়সালা আল্লাহর ওপর অর্পন করি এবং ফিতনার বিষয়ে চুপ থাকি। আল্লাহ আমাদেরকে সকল প্রকার ফিতনা থেকে হিফাজত করুক। আমীন।