রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের (১১ হিজরী, ৬৩২ খ্রি.) পরপরই ইসলামী ইতিহাসে একটি সংবেদনশীল ঘটনা ঘটে — যা ‘ফাদাকের ঘটনা’ নামে পরিচিত। এটি মূলত রাসূল (সা.)-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি (মীরাস) নিয়ে হযরত ফাতেমা (রা.) এবং প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর মধ্যে মতপার্থক্যের ঘটনা।
সূচীপত্র
Toggleএই ঘটনা সুন্নি ও শিয়া উভয় মতাদর্শে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, কিন্তু সহীহ হাদিসের আলোকে এটি একটি আইনি ইজতিহাদী (গবেষণামূলক) মতভেদ হিসেবে বিবেচিত হয় — কোনো ইচ্ছাকৃত অবিচার বা শত্রুতা নয়।
ফাদাক কী ছিল?
- ফাদাক ছিল খায়বারের কাছে একটি উর্বর বাগান/জনপদ।
- রাসূল (সা.) এটি যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং ইহুদীদের সাথে সন্ধির মাধ্যমে (বিনা লড়াই) পেয়েছিলেন। ইসলামী পরিভাষায় এটি ফাই (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) হিসেবে গণ্য হয়।
- রাসূল (সা.) এর আয় ব্যবহার করতেন মেহমানদারি, দরিদ্রদের সাহায্য, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন এবং জনকল্যাণে — ব্যক্তিগত বিলাসিতায় নয়।
- সহীহ হাদিসে প্রমাণিত যে, এটি রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশায় ফাতেমা (রা.)-কে হেবা (উপহার) হিসেবে দেওয়া হয়নি (সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি)।
- কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তিনি এটি হযরত ফাতেমা (রা.)-কে দান করেছিলেন (শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি), কিন্তু সুন্নি সূত্রে এটি প্রমাণিত নয় বরং রাসূল ﷺ-এর নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত।
রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (হাদিস ৪২৩০, ৬৭২৫); সহীহ মুসলিম (হাদিস ১৭৫৭)।
হযরত ফাতেমা (রা.)-এর দাবি (সহীহ হাদিস অনুসারে)
সহীহ বুখারীতে (কিতাবুল মাগাযী ও ফারায়েয অধ্যায়) একাধিক হাদিসে বিস্তারিত বর্ণিত আছে:
হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূল ﷺ-এর ওফাতের পর হযরত ফাতেমা (রা.) আবু বকর (রা.)-এর কাছে লোক পাঠিয়ে দাবি করেন যে, তিনি রাসূল ﷺ-এর থেকে মীরাস (উত্তরাধিকার) হিসেবে ফাদাক, খৈবরের খুমুস (খৈবর যুদ্ধের গনিমতের মালের একটি অংশ) এবং মদীনার সাদকা সম্পত্তি (রাসূল (সা.)-এর ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতাভুক্ত কিছু ভূমি) চান। (সহীহ বুখারী: ৪২৪০, ৩০৯২, ৬৭২৫ প্রভৃতি)
হযরত আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্ত ও দলিল
হযরত আবু বকর (রা.) ফাতেমা (রা.)-এর দাবি শুনে অত্যন্ত ব্যথিত হন, কিন্তু শরিয়তের প্রশ্নে অটল থাকেন। তিনি একটি সহীহ হাদিস উল্লেখ করেন যা তিনি রাসূল (সা.)-এর মুখ থেকে শুনেছিলেন:
আবু বকর (রা.) বলেন: আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি –
لا نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ
“আমরা নবীগণ মীরাস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা সাদকা (দান-খয়রাতের জন্য)।”
তাই নবীর সম্পত্তি মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ/সাদকা হিসেবে ব্যবহার করা হবে, ব্যক্তিগত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে না।রেফারেন্স: সহীহ বুখারী (হাদিস ৪২৩০, ৬৭২৫); সহীহ মুসলিম (হাদিস ১৭৫৭)।
তিনি যুক্তি দেন:
- রাসূল (সা.) ফাদাকের আয় নিজের পরিবারের বিলাসিতায় খরচ করতেন না।
- এটি রাষ্ট্রীয় ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হতো।
- খলিফা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব নবীর সেই সুন্নাহ বহাল রাখা।
আবু বকর (রা.)-এর আমানতদারী
হজরত আবু বকর (রা.) জানতেন যে ফাতেমা (রা.) কষ্ট পাচ্ছেন, কিন্তু তিনি রাসুল (সা.)-এর বর্ণিত আইনের বাইরে যেতে ভয় পেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহর শপথ, রাসুলের কোনো সুন্নাতকে ছেড়ে দিতে আমি ভয় পাই যে আমি পথভ্রষ্ট হয়ে যাব।” (সহিহ বুখারি)। অর্থাৎ, এটি ছিল তাঁর তাকওয়া ও আইনের প্রতি আনুগত্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
হযরত ফাতেমা (রা.)-এর যুক্তি ও অসন্তোষ

হযরত ফাতেমা (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষ থেকে যুক্তি ছিল:
- তাঁরা মনে করেছিলেন, সাধারণ মিরাসি আইন নবীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
- তাঁরা কুরআনের সুরা নামল-এর ১৬ নম্বর আয়াত (সোলায়মান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন) এবং সুরা মারইয়াম-এর ৬ নম্বর আয়াত (যাকারিয়া আ.-এর সন্তান চাওয়ার দোয়া) দিয়ে দলিল দিয়েছিলেন যে নবীদেরও উত্তরাধিকার থাকে।
ফলাফল: হযরত আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্তে হযরত ফাতেমা (রা.) মনে কষ্ট পান এবং সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী খলিফার সাথে আর কথা বলেননি (সহীহ বুখারী, হাদিস ৪২৪০)। তিনি রাসূল (সা.)-এর ওফাতের ৬ মাস পর (১১ হিজরীর ৩ রমজান) ইন্তেকাল করেন। (সহীহ বুখারী: ৩০৯২-৩০৯৩)
ফাতেমা (রা.)-এর অসন্তোষের প্রকৃতি
মুহাদ্দিসগণ বলেন, হজরত ফাতেমা (রা.)-এর এই অসন্তোষ কোনো দুনিয়াবি লালসা থেকে ছিল না, বরং তিনি মনে করেছিলেন এটি তাঁর শরিয়তসম্মত হক। আর একজন মানুষ হিসেবে যখন তাঁর দাবিটি নাকচ করা হয়, তখন মানবিক আবেগের কারণে সাময়িকভাবে কষ্ট পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। এটি তাঁর জান্নাতি মর্যাদা বা চারিত্রিক মহানুভবতাকে বিন্দুমাত্র ক্ষুণ্ণ করে না।
সুন্নি দৃষ্টিভঙ্গি
- আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্ত সহীহ হাদিসভিত্তিক এবং শরিয়তসম্মত।
- নবীদের সম্পত্তি উত্তরাধিকার নয়, বরং জনকল্যাণে ব্যবহার হয়।
- হযরত ফাতেমা (রা.)-এর অসন্তোষ ছিল মানবিক (পিতার স্মৃতি ও অভাবের কারণে), কিন্তু আবু বকর (রা.) কোনো অন্যায় করেননি। পরবর্তীতে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে বলে কিছু ব্যাখ্যা আছে।
- হযরত আবু বকর (রা.) বলেছিলেন: “আল্লাহর শপথ! রাসূলের আত্মীয় আমার নিজের আত্মীয়ের চেয়ে প্রিয়।” তিনি আহলে বাইতের খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করতেন।
- অনেক সুন্নি আলেম (যেমন: ইবনে হাজর, ইবনে তাইমিয়া) বলেন, এটি একটি ইজতিহাদী বিষয়, কোনো ইচ্ছাকৃত অবিচার নয়।
শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি
- ফাদাক ছিল রাসূল ﷺ-এর জীবদ্দশায় হযরত ফাতেমা (রা.)-কে দান (হিবা) করা সম্পত্তি (কুরআনের আয়াত ১৭:২৬-এর তাফসীর অনুসারে)।
- আবু বকর (রা.) এটি অন্যায়ভাবে কেড়ে নেন, যা হযরত ফাতেমা (রা.)-এর অধিকার লঙ্ঘন। তিনি সাক্ষী (আলী, উম্মে আইমান প্রমুখ) দিয়েছিলেন, কিন্তু গ্রহণ করা হয়নি।
- এটি খিলাফতের দাবির সাথে যুক্ত বলে মনে করা হয়। হযরত ফাতেমা (রা.)-এর খুতবা (ফাদাকের খুতবা) এতে তাঁর অভিযোগ বর্ণিত।
হযরত আলী (রা.)-এর অবস্থান — সবচেয়ে বড় প্রমাণ
হযরত আলী (রা.) যখন খলিফা হন (৩৫–৪০ হিজরী), তখন তিনি চাইলেই ফাদাক নিজের সন্তানদের নামে লিখে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন এবং ফাদাকের আয় জনকল্যাণে ব্যয় করেন।
রেফারেন্স: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইবনে কাসীর); শরহ নাহজুল বালাগাহ (ইবনে আবিল হাদিদ — শিয়া সোর্সেও এটি উল্লেখ আছে)।
অর্থ: এটি প্রমাণ করে যে, হজরত আলী (রা.) ফাতেমা (রা.)-এর দাবির সাথে একাত্মতা থাকলেও পরবর্তী জীবনে খলিফা হিসেবে যখন তিনি ফাদাক নিজের অধীনে নেননি, তখন তিনি কার্যত আবু বকর (রা.)-এর দলিলকেই সমর্থন করেছিলেন। এটি সাহাবা এবং আহলে বায়তের মধ্যে গভীর আদর্শিক ঐক্যেরই প্রমাণ।
সম্পর্ক নিরসনের পদক্ষেপ
ফাদাকের ঘটনা ইসলামী ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল বিষয়, যেখানে সহীহ বুখারী-মুসলিমের মতো প্রধান গ্রন্থে হযরত ফাতেমা (রা.)-এর অসন্তোষ ও কথা বন্ধ রাখার কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে (যেমন: সহীহ বুখারী, হাদিস ৪২৪০-৪২৪১)। তবে মনোমালিন্য নিরসন, ক্ষমা প্রার্থনা, সন্তুষ্টি হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা প্রধানত দুর্বল বা হাসান স্তরের সূত্রে পাওয়া যায়।
- সুনানে কুবরা (ইমাম বায়হাকী, খণ্ড ৬, পৃ. ৩০০-৩০১) এবং দালায়েলুন নুবুয়্যাহ-এ একটি বর্ণনা আছে যে, হযরত ফাতেমা (রা.) অসুস্থ হলে আবু বকর (রা.) তাঁর বাড়িতে যান, অনুমতি চান এবং হযরত আলী (রা.)-এর সাহায্যে প্রবেশ করেন। তিনি বলেন যে, “আল্লাহর শপথ! আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি, তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি এবং আপনাদের (আহলে বায়তের) সন্তুষ্টির জন্যই আমার ঘরবাড়ি ও সম্পদ ত্যাগ করেছি।” বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, তাঁর কথায় ফাতেমা (রা.) সন্তুষ্ট হন। কিতাবুল ইতিমাদ (ইবনে কাসীর)-এও অনুরুপ বর্ণনা পাওয়া যায়।
- ইমাম বায়হাকী এটিকে হাসান (ভালো) সনদ বলেছেন। কিছু আলেম (যেমন: মুহিব্বুদ্দীন তাবারী, ধাহাবী) এটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন।
- তবে সহীহ বুখারী-মুসলিমে এমন কোনো বিস্তারিত কথোপকথন নেই। সহীহ বুখারীতে শুধু অসন্তোষ ও কথা বন্ধ রাখার কথা আছে, যা মৃত্যু পর্যন্ত চলেছিল বলে বর্ণিত।
জানাজা ও দাফন নিয়ে মতভেদ
- প্রথম মত (অধিক প্রচলিত ও শক্তিশালী): হযরত ফাতেমা (রা.) অসিয়ত করেছিলেন রাতে দাফন করা হোক এবং অল্প লোক জানাজায় শরিক হোক (পর্দা রক্ষার জন্য)। মূলত, তার এই সিদ্ধান্তটি কোন সাহাবার (আবু বকর) প্রতি কোনো বিদ্বেষ নয়, বরং নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শরিয়তের একটি সূক্ষ্ম আমল পালনের অংশ ছিল। হযরত আলী (রা.) নিজে জানাজা পড়ান এবং রাতে দাফন করেন। এটি সহীহ বুখারী (হাদিস ৪২৪০) এবং অন্যান্য সূত্রে স্পষ্ট।
- দ্বিতীয় মত (অধিকাংশ আলেমদের মতে): তাবাকাতুল কুবরা (ইবনে সা’দ, খণ্ড ৮) এবং কানজুল উম্মালে (মুহাদ্দিস আল্লামা আলাউদ্দীন আলী মুত্তাকী আল-হিন্দি) কিছু বর্ণনা আছে যে, আবু বকর (রা.) জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং আলী (রা.)-এর অনুরোধে তিনি ইমামতি করেন (চার তাকবীর সহ)। এই বর্ণনাগুলোর সনদ দুর্বল বা খুবই দুর্বল (কিছু রাবী মিথ্যাবাদী বলে অভিযুক্ত)। অনেক সুন্নি আলেম (যেমন: ইবনে হাজর) এগুলোকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না।
পরবর্তী খলীফাদের অবস্থান
ফাদাক বাগানের মালিকানা নিয়ে ফাতেমা (রা.)-এর দাবির যৌক্তিকতা বোঝার জন্য পরবর্তী ইতিহাস দেখা জরুরি:
- হজরত উমর (রা.): তাঁর আমলে তিনি ফাদাকের আয় থেকে বনু হাশিম ও ফাতেমা (রা.)-এর সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতা বরাদ্দ করেছিলেন, কিন্তু মালিকানা রাষ্ট্রীয় রেখেছিলেন।
- হজরত আলী (রা.): তিনি যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি চাইলেই ফাদাক নিজের সন্তানদের নামে দিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি আবু বকর (রা.)-এর সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, আবু বকর (রা.)-এর আইনি অবস্থানটি সঠিক ছিল।
- ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.): অনেক পরে উমাইয়া খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ এই বাগানটি ফাতেমা (রা.)-এর বংশধরদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তবে তা ছিল একটি সম্মানসূচক উপহার হিসেবে।
সারাংশ
ফাদাকের ঘটনা ছিল পারিবারিক আবেগ বনাম শরীয়তী সিদ্ধান্তের সংঘাত। সহীহ হাদিসে (বুখারী-মুসলিম) হযরত ফাতেমা (রা.)-এর অসন্তোষ স্পষ্ট, কিন্তু ক্ষমা প্রার্থনা ও পূর্ণ সন্তুষ্টির বিস্তারিত বর্ণনা দুর্বল সূত্রে। জানাজায় আবু বকর (রা.)-এর ইমামতির কথা দুর্বল।
এটি ছিল একটি আইনি ইজতিহাদ বা গবেষণামূলক মতপার্থক্য। উভয় পক্ষই সত্যের ওপর ছিলেন বলে ওলামায়ে কেরাম মনে করেন—ফাতেমা (রা.) তাঁর পিতৃস্নেহ ও হকের দাবিতে এবং আবু বকর (রা.) নবীর নির্দেশের আমানত রক্ষায়।
আমাদের দায়িত্ব:
কুরআন আমাদের শেখায়: “হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।” (সুরা হাশর: ১০)
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং আহলে বাইত ও সাহাবাদের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দিন। আমীন।
উপসংহার
আসলে এই ঘটনাটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। একপাশে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কলিজার টুকরা হজরত ফাতেমা (রা.), অন্যপাশে উম্মতের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি এবং রাসুল (সা.)-এর আজীবনের সাথী হজরত আবু বকর (রা.)। ইতিহাসের এই ঘটনাগুলো আমাদের শেখায় যে, শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিদের মধ্যেও দৃষ্টিভঙ্গি বা আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে পার্থক্য হতে পারে।
হযরত ফাতেমা (রা.) জান্নাতি নারীদের সর্দার, আবু বকর (রা.) সিদ্দীক। উভয়ই পরম শ্রদ্ধেয়। তাঁদের কারো সমালোচনা না করে ভালোবাসা ও সম্মান রাখা। এই ঘটনা পড়ে দুঃখ হয়, কিন্তু আহলে বাইত ও সাহাবাদের প্রতি ভালোবাসা সহীহ হাদিসের আলোকে রাখাই উত্তম।
কুরআন যেমন আমাদের শিক্ষা দেয়:
“হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।” (সুরা হাশর: ১০)।
গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্সসমূহ:
- সহিহ বুখারি: কিতাবুল ফারায়েজ ও কিতাবুল জিহাদ।
- সহিহ মুসলিম: কিতাবুল জিহাদ ওয়াস সিয়ার।
- সুনানে আবু দাউদ: কিতাবুল খরাজ (ফাদাক সংক্রান্ত অধ্যায়)।
- আর-রাহীকুল মাখতূম: রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকাল পরবর্তী অধ্যায়।