ঘুম মহান আল্লাহর দেওয়া এক বিশেষ নিয়ামত। সারাদিনের ক্লান্তির পর ঘুম আমাদের শরীর ও মনকে বিশ্রাম দেয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা রাতের ঘুমকে তাঁর নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একজন মুসলিমের কাছে ঘুম কেবল বিশ্রামের বিষয় নয়; বরং ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করা, তাঁর ওপর ভরসা করা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ করারও একটি সুযোগ।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া, কুরআনের আয়াত ও যিকির পাঠ করতেন। এসব আমলের মধ্যে রয়েছে আয়াতুল কুরসি পাঠ, তিন কুল পড়া, সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত, তাসবিহ পড়া এবং আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার দোয়া।
এই নিবন্ধে ঘুমানোর আগে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও সুন্নাহ আমলগুলো আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ এবং হাদিসের রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হলো।
মনে রাখবেন: সব আমল প্রতিদিন একই সঙ্গে সম্পন্ন করতেই হবে—এমন নয়। সাধ্য অনুযায়ী সহিহভাবে প্রমাণিত আমলগুলো নিয়মিত করার চেষ্টা করুন।
১. ঘুমানোর প্রধান দোয়া
ঘুমাতে যাওয়ার সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ যে সংক্ষিপ্ত দোয়াটি পড়তেন, তা হলো:
আরবি:
اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩২৪।
৬৩২৪. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুমাতে চাইতেন, তখন বলতেনঃ ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার নামেই মরি এবং জীবিত হই।’’ আর তিনি যখন নিদ্রা থেকে জেগে উঠতেন তখন বলতেনঃ ’’আল্লাহ তা’আলারই সকল প্রশংসা যিনি আমাদের (নিদ্রা জাতীয়) ওফাত দেয়ার পর আবার নতুন জীবন দান করেছেন। আর সর্বশেষে তাঁরই কাছে আমাদের পুনরুত্থান হবে। [৬৩১২] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৭৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৭২)
এই দোয়ায় ঘুম ও জাগরণ—উভয় অবস্থায় আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘুমাতে যাওয়ার সময় এটি পড়তেন।
২. আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করার দোয়া
ঘুমানোর আগে আল্লাহর কাছে নিজের জীবন ও সব বিষয় সমর্পণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া রয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ আল-বারা ইবন আযিব (রা.)-কে এই দোয়া শিখিয়েছিলেন।
আরবি:
اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ، وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহি ইলাইকা, ওয়া ফাওওয়াদতু আমরি ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু যাহরি ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজা’আ ওয়া লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযি আনযালতা, ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাযি আরসালতা।
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আমার মুখমণ্ডল ও নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আমার সব বিষয় আপনার কাছে ন্যস্ত করলাম এবং আপনার ওপর নির্ভর করলাম। আপনার প্রতি আগ্রহ ও ভয় নিয়ে আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করলাম। আপনার কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো আশ্রয়স্থল নেই, আপনি ছাড়া কোনো মুক্তির স্থানও নেই। আপনি যে কিতাব নাজিল করেছেন, তার প্রতি এবং যে নবীকে পাঠিয়েছেন, তাঁর প্রতি আমি ঈমান এনেছি।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩১১; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭১০।
বারাআ ইবনু ’আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ যখন তুমি শোয়ার বিছানায় যেতে চাও, তখন তুমি সালাতের অযূর মত অযূ করবে। এরপর ডান পাশের উপর কাত হয়ে শুয়ে পড়বে। আর এ দু’আ পড়বে, হে আল্লাহ! আমি আমার চেহারাকে (অর্থাৎ যাবতীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে) তোমার হস্তে সমর্পণ করলাম। আর আমার সকল বিষয় তোমারই নিকট সমর্পণ করলাম এবং আমার পৃষ্ঠদেশ তোমার আশ্রয়ে সোপর্দ করলাম। আমি তোমার গযবের ভয়ে ভীত ও তোমার রহমতের আশায় আশান্বিত। তোমার নিকট ব্যতীত কোন আশ্রয়স্থল নেই এবং নেই মুক্তি পাওয়ার স্থান। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ, আমি তার উপর ঈমান এনেছি এবং তুমি যে নবী পাঠিয়েছ আমি তাঁর উপর ঈমান এনেছি। যদি তুমি এ রাতেই মরে যাও, তোমার সে মৃত্যু স্বভাবধর্ম ইসলামের উপরই গণ্য হবে। অতএব তোমার এ দু’আগুলো যেন তোমার এ রাতের সর্বশেষ কথা হয়। রাবী বারাআ বলেন, আমি বললামঃ আমি এ কথা মনে রাখবো। তবে بِرَسُوْلِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ সহ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না ওভাবে নয়, তুমি বলবে وَبِنَبِيِّكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ। [২৪৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৯)
ফজিলত: এই দোয়া পড়ে ঘুমানোর আগে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো বাক্যগুলো শেষবারের মতো পাঠ করার গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে এসেছে, এ অবস্থায় কেউ রাতে মৃত্যুবরণ করলে সে ইসলামের ওপর মৃত্যুবরণ করবে।
৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমলগুলোর একটি।
আরবি পাঠ: সূরা আল-বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত।
শুরু:
اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম। লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহু ইল্লা বি-ইযনিহী। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়া মা খালফাহুম। ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাই’ইম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা। ওয়া হুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম।
বাংলা অর্থ: আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করে না, নিদ্রাও নয়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। কে এমন আছে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে, তা তিনি জানেন। আর তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর কুরসি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। এ দুটির সংরক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি সর্বোচ্চ, মহান।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা: শুধু প্রথম বাক্য নয়, আয়াতুল কুরসির সম্পূর্ণ আয়াতটি তিলাওয়াত করতে হবে।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৩১১।
ফজিলত: আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত ঘটনায় শয়তান তাঁকে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করার পরামর্শ দিয়েছিল এবং বলেছিল, এতে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক থাকবে ও সকাল পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারবে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘটনাটি শুনে বলেন, সে মিথ্যাবাদী হলেও এ বিষয়ে সত্য বলেছে।
এটি নির্দিষ্ট হাদিসে বর্ণিত ফজিলত; একে সব ধরনের বিপদ থেকে নিঃশর্ত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
৪. তিন কুল পাঠ ও শরীরে হাত বুলিয়ে নেওয়া
ঘুমানোর আগে সূরা আল-ইখলাস, সূরা আল-ফালাক ও সূরা আন-নাস পাঠ করা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ। সহিহ বুখারি ৫০১৭-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি রাতে বিছানায় যাওয়ার সময় দুই হাত একত্র করে তাতে হালকা ফুঁ দিতেন, তিনটি সূরা পাঠ করতেন এবং মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করে যতটুকু সম্ভব শরীরে হাত বুলিয়ে নিতেন। তিনি এভাবে তিনবার করতেন।
১. সূরা আল-ইখলাস (سورة الإخلاص)
আরবি পাঠ:
قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
বাংলা উচ্চারণ:
কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস্ সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।
বাংলা অর্থ:
- বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।
- আল্লাহ অমুখাপেক্ষী; সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী।
- তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি।
- আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।
২. সূরা আল-ফালাক (سورة الفلق)
আরবি পাঠ:
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
বাংলা উচ্চারণ:
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক। মিন শাররি মা খালাক। ওয়া মিন শাররি গাসিকিন ইযা ওয়াকাব। ওয়া মিন শাররিন নাফফাসাতি ফিল ‘উকাদ। ওয়া মিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদ।
বাংলা অর্থ:
- বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের কাছে।
- তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে।
- আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট থেকে, যখন তা গভীর হয়।
- আর গিঁটে ফুঁদানকারীদের অনিষ্ট থেকে।
- আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।
৩. সূরা আন-নাস (سورة الناس)
আরবি পাঠ:
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
বাংলা উচ্চারণ:
কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন নাস। মালিকিন নাস। ইলাহিন নাস। মিন শাররিল ওয়াসওয়াসিল খান্নাস। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন নাস। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান নাস।
বাংলা অর্থ:
- বলুন, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে।
- মানুষের অধিপতির কাছে।
- মানুষের উপাস্যের কাছে।
- আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে।
- যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়।
- জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।
ঘুমানোর আগে কীভাবে আমলটি করবেন?
- দুই হাত একত্র করুন।
- তাতে হালকা ফুঁ দিন।
- সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস পাঠ করুন।
- মাথা, মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশ থেকে শুরু করে যতটুকু সম্ভব শরীরে হাত বুলিয়ে নিন।
- এভাবে তিনবার করুন।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০১৭।
গুরুত্ব: তিনটি সূরায় আল্লাহর একত্ব ঘোষণা এবং বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। তাই পাঠের পাশাপাশি অর্থ বোঝার চেষ্টা করাও উপকারী।
৫. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ
ঘুমানোর আগে বা রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত (২:২৮৫–২৮৬) পাঠের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সহিহ বুখারি ৫০০৯ এবং সহিহ মুসলিম ৮০৭-এ বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।
প্রথম আয়াত: সূরা আল-বাকারাহ, ২৮৫
আরবি পাঠ:
آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْ رُسُلِهِ ۚ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ
বাংলা উচ্চারণ:
আমানার রাসূলু বিমা উনযিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুসুলিহী। লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিম মির রুসুলিহী। ওয়া কালূ সামি‘না ওয়া আতা‘না। গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
বাংলা অর্থ:
রাসুল তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনরাও। তারা সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। তারা বলে, “আমরা তাঁর রাসুলদের কারও মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।” আর তারা বলে, “আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনার ক্ষমা চাই এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।”
দ্বিতীয় আয়াত: সূরা আল-বাকারাহ, ২৮৬
আরবি পাঠ:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
বাংলা উচ্চারণ:
লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস‘আহা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া ‘আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লা তুআখিযনা ইন নাসীনা আও আখতা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহূ ‘আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা। রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা লা তাকাতা লানা বিহী। ওয়া‘ফু ‘আন্না, ওয়াগফির লানা, ওয়ারহামনা। আনতা মাওলানা ফানসুরনা ‘আলাল কাওমিল কাফিরীন।
বাংলা অর্থ:
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব দেন না। সে যা ভালো অর্জন করে, তা তারই জন্য; আর সে যা মন্দ কাজ করে, তার দায়ও তারই ওপর বর্তায়।
হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই অথবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। হে আমাদের রব! এমন কিছু আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক। অতএব, কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮০৭।
ফজিলত: রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। সহিহ মুসলিম ৮০৭
এখানে “যথেষ্ট হবে” কথাটির ব্যাখ্যায় আলেমদের বিভিন্ন মত রয়েছে। তাই এটিকে নির্দিষ্ট একটি ফলাফলের নিশ্চয়তা হিসেবে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।
৬. ফাতিমি তাসবিহ
রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা.) ও জামাতা আলী (রা.)-কে ঘুমানোর আগে একটি বিশেষ যিকির শিখিয়েছিলেন।
যিকিরের সংখ্যা:
- সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
- আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
- আল্লাহু আকবার — ৩৪ বার
আরবি:
سُبْحَانَ اللَّهِ
الْحَمْدُ لِلَّهِ
اللَّهُ أَكْبَرُ
বাংলা অর্থ:
- সুবহানাল্লাহ: আল্লাহ সব ত্রুটি থেকে পবিত্র।
- আলহামদুলিল্লাহ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
- আল্লাহু আকবার: আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৭০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭২৭।
ফজিলত: হাদিসে এই যিকিরকে একজন খাদেম পাওয়ার চেয়েও উত্তম বলে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এটি আল্লাহর স্মরণ এবং দৈনন্দিন জীবনে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৭. বিছানায় শোয়ার সময়ের দোয়া
বিছানায় শোয়ার সময়ও রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নাম নিয়ে দোয়া করতেন।
আরবি:
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ وَضَعْتُ جَنْبِي وَبِكَ أَرْفَعُهُ
বাংলা উচ্চারণ: বিসমিকা আল্লাহুম্মা ওয়াদা’তু জানবি, ওয়া বিকা আরফাউহু।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি আমার পার্শ্ব বিছানায় রাখলাম এবং আপনার সাহায্যেই তা উঠাব।
হাদিসের রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩২০।
এই দোয়ার মাধ্যমে বান্দা ঘুমানো ও জেগে ওঠার ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর নির্ভরতার কথা স্মরণ করে। এটি ঘুমের আগের দোয়াগুলোর মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ আমল।
৮. পুনরুত্থানের দিনের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া
আল্লাহর কাছে আখিরাতের শাস্তি থেকে আশ্রয় চেয়ে ঘুমানোর আগে এই দোয়া পড়া বর্ণিত হয়েছে।
আরবি:
اللَّهُمَّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা কিনি আযাবাকা ইয়াওমা তাবআছু ইবাদাক।
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আমাকে আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
হাদিসের রেফারেন্স: সুনান আবু দাউদ, হাদিস ৫০৪৫।
হাদিসের মান ও পুনরাবৃত্তির বিষয়ে নোট: শাইখ আল-আলবানী (রহ.) সুনান আবু দাউদ ৫০৪৫-এর বর্ণনাটিকে সহিহ বলেছেন; তবে তাঁর মূল্যায়নে “তিনবার” কথাটি সহিহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই দোয়াটি ঘুমানোর আগে পড়ার আমল হিসেবে উল্লেখ করা যায়, কিন্তু নির্দিষ্টভাবে তিনবার পড়ার বিষয়টি আলবানীর এই গ্রেডিংয়ের ভিত্তিতে নিশ্চিত সুন্নাহ বলে দাবি করা উচিত নয়।
৯. ঘুমানোর আগে সূরা আল-কাফিরুন পাঠ
ঘুমানোর আগে সম্পূর্ণ সূরা আল-কাফিরুন পাঠ করার বিষয়ে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুনান আবু দাউদ ৫০৫৫-এর হাদিসটিকে শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (রহ.) সহিহ বলেছেন।
আরবি পাঠ
قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
বাংলা উচ্চারণ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
- কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরূন।
- লা আ‘বুদু মা তা‘বুদূন।
- ওয়ালা আনতুম ‘আবিদূনা মা আ‘বুদ।
- ওয়ালা আনা ‘আবিদুম মা ‘আবাত্তুম।
- ওয়ালা আনতুম ‘আবিদূনা মা আ‘বুদ।
- লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।
বাংলা অর্থ
- বলুন, হে কাফিরগণ!
- তোমরা যার ইবাদত করো, আমি তার ইবাদত করি না।
- আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।
- আর তোমরা যাঁর ইবাদত করেছ, আমি তাঁর ইবাদতকারী নই।
- আর আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও।
- তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম, আর আমার জন্য আমার ধর্ম।
হাদিসের রেফারেন্স ও ফজিলত
নাওফাল (রা.)-এর পিতার সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে সূরা আল-কাফিরুন পাঠ করে ঘুমাতে যেতে বলেছিলেন। কারণ, এই সূরা শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা।
- হাদিস: সুনান আবু দাউদ, ৫০৫৫
- হাদিসের মান: সহিহ — শাইখ আল-আলবানী (রহ.)
সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: এখানে সূরাটির ছয়টি আয়াত সম্পূর্ণ দেওয়া হয়েছে। বাংলা উচ্চারণ আরবি মাখরাজের বিকল্প নয়; শুদ্ধ তিলাওয়াতের জন্য নির্ভরযোগ্য কারির তিলাওয়াত শুনে মিলিয়ে পড়ুন।
১০. সূরা আল-মুলক ও সূরা আস-সাজদাহ
ঘুমানোর আগে সূরা আল-মুলক ও সূরা আস-সাজদাহ তিলাওয়াত করার বিষয়ে হাদিসে বর্ণনা এসেছে। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ সূরা আলিফ-লাম-মীম তানযীল (সূরা আস-সাজদাহ) এবং তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলক (সূরা আল-মুলক) পাঠ না করে ঘুমাতেন না।
সূরার নাম ও নম্বর:
- সূরা আস-সাজদাহ — ৩২ নম্বর সূরা
- সূরা আল-মুলক — ৬৭ নম্বর সূরা
হাদিসের সূত্র: জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৪০৪
হাদিসের মান সম্পর্কে নোট: হাদিসটির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে মুহাদ্দিসদের মূল্যায়নে পার্থক্য দেখা যায়। হাদিসবিডি-তে বর্ণনাটি সহিহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যদিকে Sunnah.com-এ দারুসসালাম সংস্করণের মূল্যায়ন অনুযায়ী এটি হাসান হিসেবে চিহ্নিত। তাই সূত্র উল্লেখ করার পাশাপাশি কোন সংস্করণ বা মুহাদ্দিসের মূল্যায়ন অনুসরণ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট রাখা ভালো।
আমল: চাইলে ঘুমানোর আগে এই দুই সূরা তিলাওয়াত করতে পারেন। যদি তিলাওয়াত করতে সমস্যা হয়, তবে তিলাওয়াত শুনে নিতে পারন। তবে হাদিসের মান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য দিতে হলে একে সর্বসম্মতভাবে সহিহ বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।।
ঘুমানোর আগে আরও যেসব সুন্নাহ আমল করা যায়
দোয়া ও কুরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি ঘুমানোর আগে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা অনুযায়ী আরও কিছু আমল করা যায়।
১. ঘুমানোর আগে অজু করা
ঘুমানোর আগে সালাতের অজুর মতো অজু করার নির্দেশ হাদিসে এসেছে।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ২৪৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭১০।
২. ডান কাতে শোয়া
ঘুমানোর সময় ডান কাতে শোয়া সুন্নাহ। এর সঙ্গে ঘুমের দোয়া পড়ার শিক্ষাও হাদিসে রয়েছে।
৩. বিছানা ঝেড়ে নেওয়া
বিছানায় যাওয়ার আগে নিজের চাদর বা বিছানা ঝেড়ে নেওয়ার নির্দেশ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩২০।
৪. ঘুমানোর আগে কুরআন ও যিকিরে মনোযোগ দেওয়া
ঘুমানোর আগে কিছু সময় আল্লাহর স্মরণে কাটানো, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং নিয়মিত আমল গড়ে তোলা উত্তম।
৫. রাতে জেগে উঠলে আল্লাহর প্রশংসা করা
ঘুম থেকে জেগে ওঠার সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ বলতেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
বাংলা উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহিন নুশূর।
বাংলা অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর জীবিত করেছেন; আর তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।
রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩২৪।
ঘুমানোর আগে কোন আমলগুলো আগে করবেন?
নতুন করে অভ্যাস গড়তে চাইলে এই সহজ রুটিন অনুসরণ করতে পারেন:
১. অজু করে ডান কাতে শোয়ার চেষ্টা করুন।
২. আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন।
৩. সূরা আল-ইখলাস, আল-ফালাক ও আন-নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলিয়ে নিন।
৪. সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করুন।
৫. ফাতিমি তাসবিহ পড়ুন।
৬. ঘুমানোর দোয়া এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের দোয়া পড়ুন।
এটি একটি সুবিধাজনক ব্যক্তিগত রুটিন, বাধ্যতামূলক নির্দিষ্ট ক্রম নয়। আপনার পক্ষে সব আমল করা সম্ভব না হলে অল্প কয়েকটি দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
ঘুমানোর আগে কোন দোয়া পড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে ঘুমানোর আগে বিভিন্ন দোয়া প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে “আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহইয়া” একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ দোয়া। আয়াতুল কুরসি এবং তিন কুল পাঠও গুরুত্বপূর্ণ আমল।
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি কয়বার পড়তে হয়?
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠের বর্ণনায় একবার পূর্ণ আয়াত পাঠের কথা রয়েছে। একাধিকবার পড়তে হবে—এমন নির্দিষ্ট নির্দেশ এখানে প্রমাণিত নয়।
তিন কুল কয়বার পড়তে হয়?
ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে হাত বুলানোর আমলটি তিনবার করা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ হিসেবে সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।
সব দোয়া কি প্রতিদিন পড়তেই হবে?
না। সবগুলো একসঙ্গে পড়তেই হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। সাধ্য অনুযায়ী সুন্নাহ অনুসরণ করুন এবং ধীরে ধীরে নিয়মিত আমল গড়ে তুলুন।
শুধু বাংলা উচ্চারণ দেখে দোয়া পড়া কি যথেষ্ট?
বাংলা উচ্চারণ শেখার প্রাথমিক সহায়ক হতে পারে। তবে আরবি উচ্চারণে ভুলের আশঙ্কা থাকে। তাই নির্ভরযোগ্য আরবি পাঠ, অডিও তিলাওয়াত এবং অর্থের সাহায্যে দোয়া শেখা উত্তম।
উপসংহার
ঘুমানোর আগে আল্লাহকে স্মরণ করা একজন মুসলিমের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শেখানো দোয়া, কুরআনের আয়াত ও যিকিরের মাধ্যমে আমরা আমাদের রাতকে আরও অর্থবহ করতে পারি।
এই আমলগুলো পালনের সময় শুধু সংখ্যা বা তালিকা সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে অর্থ বোঝার, আন্তরিকতা বজায় রাখার এবং সুন্নাহ অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সহিহ জ্ঞান অর্জন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণ এবং নিয়মিত যিকির ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।