দৈনিক এশার নামাজের পর তিন রাকাত বিতর নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। আর এই বিতর নামাজের শেষ রাকাতে যে বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতে হয়, তাকে দোয়া কুনুত (Dua Qunut) বলা হয়। অনেকে দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকায় বা সঠিক নিয়ম না জানার কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েন।
সূচীপত্র
Toggleঅনেকে আরবি হরফের সঠিক মাখরাজ ও তাজবীদ না জানার কারণে দোয়া কুনুত তিলওয়াতে ভুল করেন। আজকের নিবন্ধে তাজবীদ নির্দেশিকা, নিখুঁত বাংলা উচ্চারণ, সহজ অর্থ, হাদিসভিত্তিক ফজিলত এবং দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকলে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
আজকের নিবন্ধে দোয়া কুনুতের আরবি টেক্সট, বিশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণ, সরল বাংলা অর্থ, হাদিসভিত্তিক ফজিলত এবং মুখস্থ না থাকলে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
দোয়া কুনুত কী? (সংক্ষিপ্ত পরিচয়)
‘কুনুত’ (قُنُوْت) একটি আরবি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ একনিষ্ঠতা, আনুগত্য, নীরবতা বা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ইবাদত করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগে আল্লাহর নিকট বিশেষ অনুশোচনা, ক্ষমা ও সাহায্য চেয়ে যে দোয়া পাঠ করা হয়, তাকে দোয়া কুনুত বলে।
দোয়া কুনুত আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
১. দোয়া কুনুত তাজবীদসহ আরবি ও বাংলা উচ্চারণ
তাজবীদের সঠিক নিয়ম (গুণ্নাহ, ইখফা, কলকলা) মেনে পড়ার জন্য নিচের কালার কোড ও উচ্চারণ গাইডটি লক্ষ্য করুন:
- [লাল রঙ]: ওয়াজিব গুণ্নাহ / ইখফা (নাক দিয়ে গুঞ্জন করে পড়তে হবে)
- [নীল রঙ]: কলকলা (ধাক্কা দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে)
- [সবুজ রঙ]: টানা/মাদ (১ আলিফ বা ৩ আলিফ টেনে পড়তে হবে)
প্রথম অংশ:
আরবি:
اَللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ।
তাজবীদসহ বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা (গুণ্নাহ) ইন্না (গুণ্নাহ) নাস্তায়ীনুকা (১ আলিফ টান), ওয়া নাস্তাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী ‘আলাইকাল খাইরা, ওয়া নাশকুরুকা, ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলা’উ, ওয়া নাতরুকু মাঁইয়্যাফজুরুকা (ইদগামে বা-গুণ্নাহ: নাক দিয়ে মিলিয়ে গুঞ্জন)।
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, তোমার প্রতি ঈমান আনি, তোমার ওপর ভরসা করি এবং তোমার উত্তম প্রশংসা করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞতা আদায় করি, অকৃতজ্ঞ হই না। আর যে ব্যক্তি তোমার অবাধ্যতা করে, তাকে আমরা ত্যাগ করি ও তার সম্পর্ক ছিন্ন করি।”
দ্বিতীয় অংশ:
আরবি:
اَللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ।
তাজবীদসহ বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা (গুণ্নাহ) ইয়্যাকা না’বুদু, ওয়া লাকা নুছাল্লী, ওয়া নাসজুদু (কলকলা/থামার স্থানে), ওয়া ইলাইকা নাস’আ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা ‘আযাবাকা, ইন্না (গুণ্নাহ) ‘আযাবাকা বিল কুফফা-রি (১ আলিফ টান) মুলহিক।
বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি ও সিজদা করি। তোমারই দিকে আমরা ধাবিত হই ও আনুগত্যের জন্য এগিয়ে চলি। আমরা তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার শাস্তি কাফেরদের ওপর পতিত হবে।”
২. তাজবীদ অনুযায়ী উচ্চারণে বিশেষ সতর্কতা
বাংলা অক্ষরের মাধ্যমে আরবির ১০০% সঠিক উচ্চারণ ফুটিয়ে তোলা কঠিন। তাই পড়ার সময় এই হরফগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিন:
| আরবি হরফ | বাংলা উচ্চারণ রূপ | সঠিক উচ্চারণ নিয়ম |
| ع (আইন) | 'আ / 'ই | গলার মাঝখান থেকে চেপে উচ্চারণ করতে হবে। |
| ح (হা) | হ | গলার মাঝখান থেকে পরিষ্কার বাতাস বের করে উচ্চারণ হবে। |
| ذ (যাল) | য | জিহ্বার ডগা ওপরের দাঁতের অগ্রভাগের সাথে লাগিয়ে নরমভাবে। |
| ص (সদ) | ছ | মুখ গোল করে মোটা আওয়াজে ‘ছ’ এর মতো উচ্চারণ। |
| ق (কফ) | ক | জিহ্বার মূল অংশ তালুর সাথে লাগিয়ে মোটা আওয়াজে। |
৩. বাংলা উচ্চারণ একত্রে (সহজ ও বিশুদ্ধ)
আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা, ওয়া নাস্তাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু ‘আলাইকা, ওয়া নুছনী ‘আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা, ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলা’উ, ওয়া নাতরুকু মায়্যাফজুরুকা।
আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু, ওয়া লাকা নুছাল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা ‘আজাবাকা, ইন্না ‘আজাবাকা বিল কুফফারি মুলহিক।
৪. বাংলা অর্থ (একত্রে)
“হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, তোমার প্রতি ঈমান আনি, তোমার ওপর ভরসা করি এবং তোমার উত্তম প্রশংসা করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞতা আদায় করি, অকৃতজ্ঞ হই না। আর যে ব্যক্তি তোমার অবাধ্যতা করে, তাকে আমরা ত্যাগ করি ও তার সম্পর্ক ছিন্ন করি।
হে আল্লাহ! আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি, তোমারই জন্য নামাজ পড়ি ও সিজদা করি। তোমারই দিকে আমরা ধাবিত হই ও আনুগত্যের জন্য এগিয়ে চলি। আমরা তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার শাস্তি কাফেরদের ওপর পতিত হবে।”
বিতর নামাজে দোয়া কুনুত পড়ার সঠিক নিয়ম
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী বিতর নামাজ আদায়ের সময় দোয়া কুনুত পড়ার ধারাবাহিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
- প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাত: সাধারণ সালাতের মতোই সুরা ফাতিহার সাথে অন্য কোনো সুরা মিলিয়ে প্রথম দুই রাকাত সম্পন্ন করে তাশাহুদ (আাত্তাহিয়্যাতু) বসবেন।
- তৃতীয় রাকাত: দাঁড়িয়ে সুরা ফাতিহা পড়বেন এবং সাথে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।
- তাকবির বলা: সুরা শেষ করে রুকুতে না গিয়ে সরাসরি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দুই হাত কান পর্যন্ত (বা কাঁধ পর্যন্ত) উঠাবেন।
- হাত বাঁধা: হাত নামিয়ে পুনরায় নাভির নিচে (বা বুকের ওপর) বাঁধবেন।
- দোয়া পাঠ: নিঃশব্দে সম্পূর্ণ দোয়া কুনুত পাঠ করবেন।
- রুকু ও সিজদা: দোয়া শেষ হলে পুনরায় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকুতে যাবেন এবং সাধারণ নিয়মে নামাজ সম্পন্ন করবেন।
দোয়া কুনুত মুখস্থ না থাকলে করণীয়
অনেকেরই শুরুতে দোয়া কুনুত মুখস্থ থাকে না। দোয়া কুনুত না শিখা পর্যন্ত নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সে ক্ষেত্রে আপনি নিচের যেকোনো একটি বিকল্প পাঠ করতে পারেন:
- বিকল্প ১:
আল্লাহুম্মাগফিরলী(اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي) – ৩ বার। (অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।) - বিকল্প ২:
রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়াকিনা 'আজাবান নার(সুরা বাকারা: ২০১)। - বিকল্প ৩: ৩ বার
ইয়া রব্বি(يَا رَبِّ) পাঠ করা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এগুলো সাময়িক সমাধান। দ্রুত দোয়া কুনুত মুখস্থ করে নেওয়া ওয়াজিব দায়িত্ব।
হাদিসের আলোকে দোয়া কুনুতের গুরুত্ব ও ফজিলত
হাদিসের আলোকে বিতর নামাজ এবং এতে দোয়া কুনুত (Dua Qunut) পাঠ করার বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে। নিচে সহিহ হাদিসের আলোকে দোয়া কুনুতের প্রধান প্রধান ফজিলত ও তাৎপর্য তুলে ধরা হলো:
১. রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো বিশেষ দোয়া
দোয়া কুনুতের শব্দগুলো স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হযরত হাসান ইবনে আলী (রা.)-কে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।
হযরত হাসান ইবনে আলী (রা.) বলেন:
“রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বিতরের কুনুতে পড়ার জন্য কয়েকটি বাক্য শিখিয়েছিলেন…”
[সূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ১৪২৫, সুনানে নাসাঈ: ১৭৪৫, তিরমিজি: ৪৬৪ (সহিহ)]
আল্লাহর রাসূল (সা.) নিজ হাতে ও মুখনিঃসৃত বাক্যে যে দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, তা পাঠ করা সুন্নতে নববীর অনুসরণের একটি অন্যতম মাধ্যম।
২. হেদায়েত, সুস্থতা ও সার্বিক নিরাপত্তার আর্জি
দোয়া কুনুতের বাক্যগুলোর (বিশেষ করে হাদিসে বর্ণিত কুনুতে নাজেলা বা কুনুতের বাক্যাংশ) চমৎকার অর্থ রয়েছে, যা বান্দার জীবনের সমস্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে:
- হেদায়েত প্রার্থনা: “আল্লাহুম্মাহদিনী ফিমান হাদাইত” — হে আল্লাহ! যাদের তুমি হেদায়েত দিয়েছ, আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করো।
- শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতা: “ওয়া ‘আফিনী ফিমান ‘আফাইত” — যাদের তুমি সুস্থতা ও নিরাপত্তা দিয়েছ, আমাকেও তাদের দলে রাখো।
- হেফাজত ও বারাকাহ: “ওয়া বারিক লী ফীমা আ’তাইত” — তুমি আমাকে যা দান করেছ, তাতে বরকত দাও এবং সব অনিষ্ট থেকে রক্ষা করো।
৩. শেষ রাতের বিশেষ ইবাদত ও ক্ষমা লাভের সুযোগ
বিতর নামাজ সাধারণত এশার পর অথবা শেষ রাতে তাহাজ্জুদের পর আদায় করা হয়। হাদীস শরীফে এসেছে, রাতের শেষ প্রহরে মহান আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নাজিল হন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন: “কে আছ ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব।” (সহিহ বুখারী: ১১৪৫)।
সেই বিশেষ সময়ে দোয়া কুনুতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিজের পাপের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করা ও ক্ষমা চাওয়ার কারণে দোয়া দ্রুত কবুল হয়।
৪. কঠিন বিপদ-আপদ ও মুসিবত থেকে মুক্তি
দোয়া কুনুত কেবল বিতর নামাজের সাথেই সীমাবদ্ধ নয়; মুসলিম উম্মাহ যখন কোনো কঠিন সংকট, মহামারী বা জালেমের জুলুমের শিকার হয়, তখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শেষ রাকাতেও রাসূলুল্লাহ (সা.) কুনুতে নাজেলা পাঠ করতেন।
হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো বিপদের মুহূর্তে এক মাস ধরে ফজরের নামাজে রুকুর পর কুনুত পাঠ করেছিলেন।
[সহিহ বুখারী: ১০০২, সহিহ মুসলিম: ৬৭৭]
৫. আল্লাহ তাআলার সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন
দোয়া কুনুতের মূল বক্তব্য হলো—আল্লাহর প্রতি পূর্ণ নির্ভরতা (তাওয়াক্কুল), তাঁর ইবাদতের অঙ্গীকার এবং তাঁর শাস্তির ভয়। যখন একজন বান্দা আল্লাহর দরবারে দাঁড়িয়ে বিনীতভাবে এই কথাগুলো স্বীকার করে, তখন তার ঈমান মজবুত হয় এবং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: দোয়া কুনুত কি বিতর নামাজে পড়া ওয়াজিব?
উত্তর: হ্যাঁ, হানাফি মাযহাব অনুসারে বিতর নামাজের ৩য় রাকাতে দোয়া কুনুত পাঠ করা ওয়াজিব। ভুলে না পড়লে নামাজের শেষে ‘সাহু সিজদা’ দিতে হবে।
প্রশ্ন ২: দোয়া কুনুত কি রুকুর আগে নাকি পরে পড়তে হয়?
উত্তর: হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী রুকুর আগে হাত বেঁধে দোয়া কুনুত পড়তে হয়। তবে শাফেয়ী মাযহাবে রুকু থেকে উঠে হাত তুলে কুনুত পড়ার নিয়ম রয়েছে।
প্রশ্ন ৩: দোয়া কুনুত পড়ার সময় কি হাত তুলতে হয়?
উত্তর: সুরা মিলানোর পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত কান/কাঁধ পর্যন্ত উঠিয়ে বাঁধতে হয়, এরপর দোয়া পাঠ করতে হয়। দোয়ার পুরোটা সময় হাত মোনাজাতের মতো তুলে রাখতে হয় না (হানাফি নিয়ম অনুযায়ী)।
ইবলিস ও শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে এবং শেষ রাতের ইবাদতকে কবুলিয়াতের দরজায় পৌঁছাতে বিতর নামাজ ও দোয়া কুনুতের নিয়মিত চর্চা গড়ে তুলুন। নিবন্ধটি ভালো লাগলে পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন।