
মওদূদীবাদ অভিযোগ যাচাই ০১: আল্লাহ তা’আলা যালেম। (তাফহীমাতঃ ২/২৮১)
অভিযোগ ০১: “আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে মাওলানা মওদুদীর বিশ্বাস হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা জালিম (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলার দেওয়া বিধানসমূহ তাঁর
শাইখ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ.) (২৫ সেপ্টেম্বর ১৯০৩ – ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯) ছিলেন একজন বিশিষ্ট মুসলিম চিন্তাবিদ, গবেষক, আইনজ্ঞ, সাংবাদিক, এবং রাজনৈতিক নেতা। তিনি মাওলানা মওদুদী বা নামেও পরিচিত। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দার্শনিক হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। উইলফ্রেড ক্যান্টওয়েল স্মিথ তাকে “আধুনিক ইসলামের সবচেয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ চিন্তাবিদ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বংশগতভাবে, তিনি সাইয়েদুনা হুসাইন শহিদের ৩৬তম বংশধর। তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে অন্যতম, খাজা কুতুব উদ্দীন মওদুদ চিশতি (মৃত্যু: ৫২৭ হিজরি), চিশতিয়া তরিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই বংশের লোকজন ‘মওদুদী’ উপাধি গ্রহণ করেন। মওদুদী পরিবারের পূর্ববর্তী প্রজন্মের অনেকেই ধারাবাহিকভাবে দাওয়াত-তাবলীগ ও পীর-মুরিদির কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।
মওদুদী কুরআনের ব্যাখ্যা, হাদিস, ইসলামি আইন, দর্শন এবং ইতিহাস নিয়ে গভীর গবেষণা করেন। তার রচনাগুলো মূলত উর্দু ভাষায় রচিত হলেও পরবর্তীতে সেগুলো ইংরেজি, আরবি, বাংলা, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, বর্মি, মালায়ালামসহ আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হয়। তিনি মুসলিম সমাজের কাছে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার জন্য নিরলস কাজ করেছেন।
আবুল আলা মওদুদী (রহ.) তাফসীর লেখার জন্যে ৩০ বছর সময় ব্যয় করেন। তিনি ১৯৪২ সালে উর্দু ভাষায় শুরু করেন এবং ১৯৭২ সালে এটি সম্পন্ন করেন।
দ্বীনী জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। মওদুদী বলেছিলেন, “আমি কোরআন ও সুন্নাহ থেকেই দ্বীনের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করেছি, কোন বুযুর্গ বা কারও ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করিনি। আমি সবসময় দেখার চেষ্টা করেছি যে কোরআন কি নির্দেশ দেয় এবং রাসূল (সাঃ) এর কর্মপন্থা কী ছিল।”
তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলামী রাজনীতি মুসলিমদের জন্য অপরিহার্য, এবং শরিয়া ও ইসলামী সংস্কৃতির সংরক্ষণ খিলাফতে রাশিদার মতো সুশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রকে মুসলিম সমাজের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করতেন।
একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তিনি জামায়াতে ইসলামী নামে একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। ইসলামে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ১৯৭৯ সালে তাকে কিং ফয়সাল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাওলানা মওদূদী (রহ.)-্এর কিছু ফিকহী এবং ইখতেলাফি ব্যাখ্যার জন্য তাকে অনেকেই কাফের এবং ইসলাম বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন। অনেকে তার এই দর্শন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার পদ্ধতির সমালোচনা করে, একে মওদূদীবাদ বলে নাম দিয়েছেন।
এই নিবন্ধে আমরা ধারাবাহিকভাবে, উনার সম্পের্কে থাকা প্রতিটি অভিযোগের ধীরে ধীরে যাচাই করব। এই সিরিজটি অনবরত চলতেই থাকবে।
নিচের আর্টিকেলগুলোতে উনার সম্পর্কে সমালোচনাগুলো যাচাই করা হয়েছে। দেখতে লিংকগুলোতে ক্লিক করুন।
দ্রষ্টব্য: আমরা ধারাবাহিকভাবে উনার সম্পর্কে অভিযোগগুলো যাচাই করতেই থাকব।

অভিযোগ ০১: “আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে মাওলানা মওদুদীর বিশ্বাস হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা জালিম (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ তাআলার দেওয়া বিধানসমূহ তাঁর