Mastodon
বেস্ট সেলার

তাফহীমুল কুরআন – ১৯তম খণ্ড

লেখক: আবুল আ’লা মওদূদী (রহ)
এডিটরিয়াল রেটিং:
তাফহীমুল কুরআনের ১৯তম খণ্ডটি কুরআনের শেষ সূরাগুলোর জীবনমুখী বার্তা, আত্মশুদ্ধি এবং ইসলামী জীবনদর্শনের এক অসাধারণ সংকলন। তবে ধ্রুপদী আকাইদের সূক্ষ্ম শব্দচয়ন ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী আলেমদের কিছু দ্বিমত থাকায়, এটি পাঠ করার সময় ক্লাসিক্যাল তাফসিরগুলোর (যেমন: তাফসীরে ইবনে কাছীর, মাআরেফুল কুরআন বা তাওযীহুল কুরআন) সাথে মিলিয়ে পাঠ করা অধিক নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
মূল বিষয়গুলো:
ভাল দিক
  • সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষা: জটিল আরবি বা ফিকহি পরিভাষা এড়িয়ে সহজ-সরল বাংলায় লেখা, যা সাধারণ পাঠকদের জন্য অত্যন্ত সহজবোধ্য।
  • সমকালীন বাস্তবতার প্রয়োগ: শেষদিকের সূরাগুলোর (যেমন: ফালাক ও নাস) শিক্ষা ও শয়তানের প্ররোচনাকে আধুনিক জীবন ও মানসিক বিষয়ের সাথে মিলিয়ে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
  • ঐতিহাসিক পটভূমির সবিস্তার আলোচনা: প্রতিটি সূরা তাফসিরের আগে সেটির নাযিলের সময়কাল ও পেছনের প্রেক্ষাপট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
  • দাওয়াতী ও জীবনমুখী বার্তা: বিজয়ের পর অহংকার না করে বিনয়ী হওয়া ও ইস্তিগফার করার মতো গভীর নৈতিক শিক্ষা এতে প্রখরভাবে ফুটে উঠেছে।
দূর্বল দিক
  • শব্দচয়ন সংক্রান্ত সমালোচনা: সূরা নাসরের ব্যাখ্যায় নবীদের মানবীয় দিক বোঝাতে কিছু শব্দ ব্যবহারে ঐতিহ্যবাহী উলামায়ে কেরাম আপত্তি তুলেছেন।
  • রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবধারার প্রাধান্য: শাস্ত্রীয় তাফসিরের তুলনায় লেখকের নিজস্ব চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক দর্শনের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।
  • রেওয়ায়েতের সূক্ষ্ম বিচারে শিথিলতা: কিছু কিছু জায়গায় দুর্বল বর্ণনা বা ইসরাইলী রেওয়ায়েতের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
প্রকাশক: আধুনিক প্রকাশনী
ফরমেট: 283 পৃষ্ঠা, ৩৩তম প্রকাশ, ২০১৯
ভাষা: বাংলা
*এই লিংকের মাধ্যমে আপনি পণ্যটি ক্রয় করলে আপনার কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই HaqqFinder একটি ক্ষুদ্র কমিশন পেতে পারে।

বিস্তারিত পর্যালোচনা:

তাফহীমুল কুরআন ১৯ খন্ড রিভিউ

তাফহীমুল কুরআন (১৯তম খণ্ড): একটি নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা

সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী (রহ.) কর্তৃক রচিত ‘তাফহীমুল কুরআন’ আধুনিক ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম বহুল পঠিত ও আলোচিত তাফসির গ্রন্থ। বাংলা অনুবাদ সংস্করণে এটি ১৯টি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। ১৯তম খণ্ডটি মূলত পবিত্র কুরআনের একদম শেষ অংশ—বিশেষ করে ৩০তম পারার শেষভাগের ছোট ছোট সূরাগুলো (যেমন: সূরা আল-ফালাক, সূরা আন-নাস ইত্যাদি)—এর বিস্তৃত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ নিয়ে রচিত।

একটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে এই খণ্ডটির সাহিত্যিক মান, ব্যাখ্যাশৈলী, ব্যবহারিক উপযোগিতা এবং আলেম সমাজের পর্যালোচনার আলোকেই নিচে বিস্তারিত রিভিউ উপস্থাপন করা হলো:

১. গঠন ও বিষয়বস্তু (Structure & Content)

এই খণ্ডে কুরআনের শেষদিকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দৈনিক জীবনে বহুল পঠিত সূরাগুলোর আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি সূরার তাফসির প্রধানত তিনটি ধাপে সাজানো হয়েছে:

  • নামকরণ ও নাযিলের সময়কাল: সূরার নাম কেন এমন হলো এবং এটি মাক্কী নাকি মাদানী তা নিয়ে আলোচনা।
  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (শান-এ-নুজুল): সূরাটি নাযিলের পেছনের ঐতিহাসিক পরিস্থিতি ও পটভূমি।
  • টীকাসহ আয়াতভিত্তিক ব্যাখ্যা: প্রতিটি আয়াতের শাব্দিক অনুবাদের সাথে প্রাসঙ্গিক টীকা (Footnotes) এবং সমকালীন জীবনমুখী শিক্ষা।

২. প্রধান সবল দিক ও ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য

  • সহজ, প্রাঞ্জল ও গতিশীল ভাষা: ঐতিহ্যবাহী ধ্রুপদী তাফসিরগুলো সাধারণত জটিল আরবি ব্যাকরণ, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও ফিকহি বিতর্কে ভারাক্রান্ত থাকে। তাফহীমুল কুরআনের এই খণ্ডে সেসব জটিলতা এড়িয়ে অত্যন্ত আধুনিক ও ঝরঝরে ভাষায় ভাবার্থ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ ও আধুনিকশিক্ষায় শিক্ষিত পাঠকদের দ্রুত আকৃষ্ট করে।
  • মনস্তাত্ত্বিক ও জীবনমুখী ব্যাখ্যা: শেষদিকের সূরাগুলোতে বর্ণিত হিংসা, হাসাদ, জাদু-টোনা, শয়তানের প্ররোচনা (ওয়াসওয়াসা) এবং মানসিক আত্মরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ের ব্যাখ্যায় লেখক আধুনিক মানুষের জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ ও মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার সাথে চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
  • ঐতিহাসিক পটভূমির সুস্পষ্ট চিত্রায়ন: কোনো একটি সূরা নাযিলের সময় তৎকালীন আরবের সামাজিক পরিস্থিতি ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দাওয়াতী জীবনের অবস্থা কেমন ছিল—তা অত্যন্ত জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফলে পাঠক কেবল অনুবাদ পড়ে না, বরং আয়াতের পেছনের পরিবেশটি দৃশ্যমান দেখতে পায়।
  • নৈতিক ও আচরণগত দিকনির্দেশনা: সূরা আল-ইনশরাহ বা সূরা আন-নাসর-এর তাফসিরে দাওয়াতী কাজের কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করা এবং সাফল্য বা বিজয়ের পর অহংকারী না হয়ে আল্লাহর সামনে চরম বিনয়ী ও ক্ষমা প্রার্থনাকারী হওয়ার যে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তা যেকোনো সচেতন পাঠকের জন্য দারুণ অনুপ্রেরণাদায়ক।

৩. সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ ও সীমাবদ্ধতা

নিরপেক্ষ পর্যালোচনায় এই খণ্ডটিকে ঘিরে ইসলামি পণ্ডিতদের (বিশেষ করে দেওবন্দী ও সালাফী ঘরানার আলেমদের) কিছু গুরুতর আপত্তির বিষয় তুলে ধরা আবশ্যক:

  • নবুওয়াতের মর্যাদাকেন্দ্রিক শব্দচয়ন ও বিতর্ক: সূরা আন-নাসর বা অনুরূপ সূরার ব্যাখ্যায় নবী করিম (সা.)-এর মানবীয় দিক ও দায়িত্ব পালন আলোচনা করতে গিয়ে লেখক যে কিছু শব্দচয়ন (যেমন: ভুলত্রুটি বা দায়িত্ব পালনে ঘাটতি সংক্রান্ত পরিভাষা) করেছেন, ঐতিহ্যবাহী আলেমদের মতে তা নবীদের ‘মাসুম’ বা নিষ্পাপ হওয়ার আকাইদের বিচারে অসাবধানতামূলক। সমালোচকদের মতে, এতে আম্বিয়াদের মর্যাদার প্রতি যে সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখা উচিত ছিল, তাতে ঘাটতি দেখা গেছে।
  • সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবধারার প্রচ্ছায়: লেখকের নিজস্ব চিন্তাধারা (ইসলামকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা) তাফসিরের মূল সুর জুড়ে বিরাজ করে। ফলে কিছু আলেম মনে করেন, বিশুদ্ধ আধ্যাত্মিক ও শাস্ত্রীয় আলোচনার চেয়ে এখানে দাওয়াতী ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
  • হাদীসের সনদের সূক্ষ্ম বিচারে শিথিলতা: মুহাদ্দিসদের দৃষ্টিতে, ঐতিহাসিক ঘটনা ও শান-এ-নুজুল বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বল বা বিতর্কিত রেওয়ায়াত (যেমন: ইসরাইলী বর্ণনা) এখানে স্থান পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই না করেই বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

৪. সামগ্রিক মূল্যায়ন ও পাঠকের জন্য পরামর্শ

তাফহীমুল কুরআন (১৯তম খণ্ড) মূলত কুরআনকে জীবনমুখী ও প্রয়োগযোগ্য এক বাস্তব নির্দেশিকা হিসেবে পাঠকের সামনে উপস্থাপন করতে অত্যন্ত সফল। যারা সাধারণ পাঠক এবং কুরআনের শেষ সূরাগুলোর অন্তর্নিহিত শিক্ষা, ইতিহাস ও নৈতিক বার্তা সহজে বুঝতে চান, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ও আকর্ষণীয় বই।

পরামর্শ: আকাইদ বা সূক্ষ্ম ফিকহি বিষয়ে পরিপূর্ণ ও নিরাপদ ধারণা পেতে এই খণ্ডটির পাশাপাশি ধ্রুপদী ও ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য তাফসির—যেমন তাফসীরে ইবনে কাছীর, মাআরেফুল কুরআন (মুফতি শফী রহ.) অথবা তাওযীহুল কুরআন (মুফতি তকী উসমানী)—একসাথে মিলিয়ে পাঠ করা অধিকতর বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ:

আমাদের মূল্যায়ণ:

তাফহীমুল কুরআনের ১৯তম খণ্ডটিকে একজন পাঠকের চাহিদা এবং দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে ৪.২ / ৫ (4.2 out of 5) রেটিং দেওয়া যায়।

নিচে বিষয়ভিত্তিক রেটিং বিভাজন তুলে ধরা হলো:

মানদণ্ড (Criteria)রেটিং (out of 5)সংক্ষিপ্ত কারণ
ভাষাশৈলী ও সহজবোধ্যতা৪.৮অত্যন্ত ঝরঝরে, আধুনিক ও প্রাঞ্জল বাংলা উপস্থাপন।
জীবনমুখী শিক্ষা ও প্রাসঙ্গিকতা৪.৬আধুনিক সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক জীবনের সাথে চমৎকার সংযোজন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (শান-এ-নুজুল)৪.৫প্রতিটি সূরার নাযিলের পরিবেশ জীবন্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
আকাইদ ও শব্দচয়নের ভারসাম্য৩.২কিছু ব্যাখ্যামূলক শব্দ নিয়ে ঐতিহ্যবাহী আলেমদের আপত্তি রয়েছে।

এক নজরে কেন এই রেটিং:

  • যাদের জন্য ৫/৫: আপনি যদি সাধারণ পাঠক হন এবং কুরআনের শেষ সূরাগুলোর সহজ অনুবাধন, ঐতিহাসিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং আধুনিক জীবনে এর প্রয়োগ বুঝতে চান, তবে এটি আপনার কাছে একটি ৫/৫ মানের বই।
  • যে কারণে নম্বর কিছুটা কম (৪.২): অ্যাকাডেমিক ও শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আকাইদের সূক্ষ্ম শব্দচয়ন (যেমন: নবীদের মর্যাদা কেন্দ্রিক বিতর্ক) এবং কিছু দুর্বল রেওয়ায়েতের ব্যবহারের কারণে ঐতিহ্যবাহী আলেম ও গবেষকদের বিচারে এটি শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নয়।

সর্বোপরি: সাধারণ পাঠকদের জন্য কুরআনের বার্তা সহজে অনুধাবনের ক্ষেত্রে এটি ৪.২/৫ রেটিং পাওয়ার মতো একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রভাবশালী তাফসির খণ্ড।

সততা ও স্বচ্ছতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি

হকফাইন্ডারে তালিকাভুক্ত প্রতিটি রিসোর্স তার নির্ভরতা, ছাপার মান এবং বাস্তব উপযোগিতার ভিত্তিতে ম্যানুয়ালি রিভিউ করা হয়। আমরা অযাচাইকৃত পণ্য বা নির্ভরযোগ্য নয় এমন সাহিত্যের জন্য কোনো পেইড প্রোমোশন গ্রহণ করি না। বিস্তারিত জানতে আমাদের পূর্ণাঙ্গ দায়মুক্তি ঘোষণা ও অ্যাফিলিয়েট নীতি পড়ুন।

রেটিং এবং মতামত

5.0
5.0 out of 5 stars (based on 1 review)
Excellent
Very good
Average
Poor
Terrible

অসাধারণ এবং সহজ ভাষার গ্রন্থ

অক্টোবর 5, 2026

আপনি যত তাফসিরই পড়েন না কেন, সাধারণ মানুষের জন্য এর চেয়ে বেস্ট কোন তাফসির গ্রন্থ অন্তত বাংলা ভাষায় আছে কিনা সন্দেহ। এত চমৎকারভাবে প্রতিটি বিষয় লেখক উপস্থাপন করেছেন, যার প্রশংসা না করে আপনি পারবেন না। শিখার মানসিকতা যাদের আছে তাদের জন্য অনবদ্য গ্রন্থ এটি।

Avatar for মোহাম্মদ
মোহাম্মদ

Response from হক সন্ধানী

আপনি যথার্থই বলেছেন। আমাদের পড়া সবচেয়ে সহজ সংক্ষিপ্ত তাফসির গ্রন্থ এটি এতে কোন সন্দেহ নেই।

সম্পর্কিত রিকমেন্ডেশনগুলো:
Share On:
Facebook
X
LinkedIn
Pinterest
Reddit
WhatsApp
Tumblr
Telegram
Threads

Login

Fill out the form below, and we will be in touch shortly.